কাতিলা গাম খাওয়ার উপকারিতা ও সঠিক ব্যবহারের নিয়ম

MOHAMMAD SABBIR
0

কাতিলা গাম খাওয়ার উপকারিতা ও সঠিক ব্যবহারের নিয়ম
(toc) #title=(Table of Content)


প্রকৃতি আমাদের সুস্থ রাখার জন্য অগণিত উপাদান দিয়ে রেখেছে, যার মধ্যে 'কাতিলা গাম' বা 'ট্রাগাকান্থ গাম' (Tragacanth Gum) অন্যতম। আয়ুর্বেদিক এবং ইউনানি চিকিৎসায় বহু বছর ধরে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে গরমের সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং শারীরিক শক্তি বৃদ্ধিতে এর জুড়ি মেলা ভার। আজকের ব্লগে আমরা 
কাতিলা গাম খাওয়ার উপকারিতা, ব্যবহারের নিয়ম এবং এর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

কাতিলা গাম কী?

কাতিলা গাম হলো এক প্রকার প্রাকৃতিক আঠা, যা মূলত 'অ্যাস্ট্রাগালাস' (Astragalus) উদ্ভিদের কান্ড থেকে সংগ্রহ করা হয়। এটি দেখতে অনেকটা ছোট ছোট পাথরের মতো বা স্ফটিকের মতো হয়। পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এটি ফুলে ওঠে এবং জেলির মতো আকার ধারণ করে। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ফলিক অ্যাসিড রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।

কাতিলা গাম খাওয়ার উপকারিতা

সুস্বাস্থ্যের জন্য কাতিলা গাম খাওয়ার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। নিচে এর প্রধান কিছু গুণাগুণ আলোচনা করা হলো:

শরীর ঠান্ডা রাখতে ও হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে

কাতিলা গামের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এর শীতলকারী প্রভাব। প্রচণ্ড গরমে শরীর যখন অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, তখন কাতিলা গাম খেলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে এবং অতিরিক্ত তৃষ্ণা মেটাতে দারুণ কার্যকর।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ও হজম শক্তিতে

যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য কাতিলা গাম খাওয়ার উপকারিতা অপরিসীম। এটি প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে, যা মল নরম করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত এটি সেবন করলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

কাতিলা গামে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। এটি খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, যার ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়। ফলে শরীরের মেদ কমাতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে এটি সাহায্য করে।

শারীরিক শক্তি ও যৌন স্বাস্থ্যের উন্নতি

পুরুষ ও মহিলাদের শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে কাতিলা গাম জাদুর মতো কাজ করে। এটি প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে লিবিডো বৃদ্ধিতে এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা ও অ্যান্টি-এজিং হিসেবে

ত্বকের বলিরেখা দূর করতে এবং ত্বককে টানটান রাখতে কাতিলা গাম ব্যবহার করা হয়। এটি অ্যান্টি-এজিং হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা বজায় রাখে। কেবল খেয়েই নয়, এটি ফেসপ্যাক হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

প্রসব পরবর্তী স্বাস্থ্যের উন্নতি

সন্তান জন্মদানের পর মায়েদের শরীরে যে দুর্বলতা তৈরি হয়, তা কাটিয়ে উঠতে কাতিলা গাম খাওয়ার উপকারিতা অনেক। এটি মায়েদের স্তন্যদুগ্ধ বৃদ্ধিতেও সহায়ক হতে পারে।

কাতিলা গাম খাওয়ার সঠিক নিয়ম

অনেকেই কাতিলা গাম কেনেন কিন্তু এটি সঠিক পদ্ধতিতে না খাওয়ার ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পান না। নিচে সঠিক নিয়মটি দেওয়া হলো:

  • ভেজানোর পদ্ধতি: রাতে ঘুমানোর আগে ১ চা চামচ বা ২-৩ টুকরো কাতিলা গাম এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সারারাত ভিজলে এটি ফুলে জেলির মতো হবে।

  • মিশ্রণ তৈরি: সকালে ফুলে যাওয়া কাতিলা গামের সাথে মিশিয়ে নিন এক গ্লাস পানি, সামান্য চিনি বা মিছরি এবং লেবুর রস। আপনি চাইলে এটি দুধ বা ফলের জুসের সাথেও মিশিয়ে খেতে পারেন।

  • সতর্কতা: কাতিলা গাম কখনও শুকনো খাবেন না। এটি পেটে গিয়ে ফুলে উঠতে পারে, যা শ্বাসকষ্ট বা অন্ত্রে বাধার সৃষ্টি করতে পারে।

কাতিলা গাম খাওয়ার ক্ষতিকর দিক বা অপকারিতা

উপকারিতা থাকলেও অতিরিক্ত বা ভুল পদ্ধতিতে সেবনে কিছু সমস্যা হতে পারে। যেমন:

১. পানি স্বল্পতা: কাতিলা গাম খাওয়ার পর প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হয়। পানি কম খেলে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
২. অ্যালার্জি: কারো কারো ক্ষেত্রে কাতিলা গাম থেকে অ্যালার্জি হতে পারে। প্রথমবার অল্প পরিমাণে খেয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
৩. শ্বাসকষ্ট: সঠিকভাবে না ভিজিয়ে খেলে এটি গলায় আটকে যাওয়ার বা শ্বাসকষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৪. গর্ভাবস্থায় সতর্কতা: গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি না খাওয়াই শ্রেয়।

কাতিলা গাম কেন আপনার খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত?

বর্তমানে আমরা কৃত্রিম পানীয় বা এনার্জি ড্রিংকের দিকে ঝুঁকছি, যা শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করছে। সেই জায়গায় কাতিলা গাম খাওয়ার উপকারিতা বিবেচনা করলে এটি একটি নিরাপদ এবং প্রাকৃতিক বিকল্প। এটি কেবল তৃষ্ণা মেটায় না, বরং ভেতর থেকে শরীরকে শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

প্রাকৃতিক ভেষজ হিসেবে কাতিলা গাম সত্যিই অনন্য। তবে মনে রাখবেন, যেকোনো কিছুই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো। আপনি যদি নিয়মিত হজমের সমস্যা বা শারীরিক দুর্বলতায় ভোগেন, তবে আজই আপনার ডায়েটে কাতিলা গাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। তবে বিশেষ কোনো দীর্ঘমেয়াদী রোগ থাকলে ব্যবহারের আগে অবশ্যই একজন পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আশা করি, কাতিলা গাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কিত এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য সহায়ক হয়েছে। সুস্থ থাকুন, প্রকৃতির সাথেই থাকুন।

প্রয়োজনীয় টিপস: আর্টিকেলে আলোচিত উপকারিতা পেতে হলে অবশ্যই ভালো মানের এবং ভেজালমুক্ত কাতিলা গাম সংগ্রহ করবেন। ভালো মানের কাতিলা গাম সাধারণত স্বচ্ছ বা হালকা ঘিয়ে রঙের হয়ে থাকে।

আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাপশন সহ ইত্যাদি দেখতে চান তাহলে আমাদের এই সাইটি ভিজিট করতে পারেন। আমাদের অন্য একটি সাইট ভিজিট করতে 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top