লটকনের উপকারিতা - স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাদুকরী গুণ

MOHAMMAD SABBIR
0

লটকনের উপকারিতা - স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাদুকরী গুণ
(toc) #title=(Table of Content)


বর্ষার এই মৌসুমে বাজারে গেলেই হলদে রঙের থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা একটি ফলের দেখা মেলে, তা হলো লটকন। লটকন বা হাড়ফাটা ফলটি খেতে যেমন টক-মিষ্টি সুস্বাদু, তেমনি এর রয়েছে নানাবিধ পুষ্টিগুণ। গ্রামাঞ্চলে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও বর্তমানে শহরেও এর কদর বেড়েছে। তবে অনেকেই জানেন না যে, সামান্য এই ফলের ভেতরে লুকিয়ে আছে সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। আজকের ব্লগে আমরা 
লটকনের উপকারিতা, এর পুষ্টিগুণ এবং এটি ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

লটকনের পুষ্টিগুণ

লটকনের উপকারিতা সম্পর্কে জানার আগে এর পুষ্টিমান সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। লটকনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, আয়রন, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে। এ ছাড়া এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবার। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে প্রায় ৯২ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি পাওয়া যায়।

লটকনের উপকারিতা কী কী?

লটকন শুধু রসনা মেটায় না, এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ অনেক সমস্যা সমাধান করে। নিচে লটকনের উপকারিতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে লটকনের উপকারিতা

লটকনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন যে পরিমাণ ভিটামিন সি প্রয়োজন, তার একটি বড় অংশ ২-৩টি লটকন থেকেই পাওয়া সম্ভব। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে, যা বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

হজম শক্তি ও রুচি বাড়াতে লটকনের উপকারিতা

যাঁদের মুখে রুচি নেই বা ক্ষুধামন্দায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য লটকন একটি মহৌষধ। এর টক-মিষ্টি স্বাদ মুখের রুচি ফিরিয়ে আনে। পাশাপাশি এতে থাকা ফাইবার বা আঁশ হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

রক্তশূন্যতা দূর করতে লটকনের উপকারিতা

লটকনে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন রয়েছে। আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। তাই যাঁরা অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন, তাঁদের নিয়মিত লটকন খাওয়া উচিত। বিশেষ করে নারীদের জন্য লটকনের উপকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ত্বক ও চুলের যত্নে লটকনের উপকারিতা

লটকনে বিদ্যমান ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। এটি কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে ত্বককে টানটান রাখে। এ ছাড়া লটকন খেলে চুলের গোড়া শক্ত হয় এবং চুল পড়া কমে।

মানসিক চাপ ও ক্লান্তি দূর করতে

লটকনে ভিটামিন বি২ (রিবোফ্লাভিন) থাকে, যা শরীরের ক্লান্তি দূর করে এবং এনার্জি লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে। গরমে একমুঠো লটকন খেলে মন ও শরীর উভয়েই সতেজ হয় এবং মানসিক চাপ কমে।

কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে

লটকনে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা কোলন পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণাবলি শরীরে ক্ষতিকারক ফ্রি-র‍্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

লটকন খাওয়ার সঠিক নিয়ম

লটকনের উপকারিতা পুরোপুরি পেতে হলে এটি সঠিক উপায়ে খাওয়া প্রয়োজন।

  • সরাসরি ফল হিসেবে: লটকন সবসময় তাজা খাওয়ার চেষ্টা করুন। খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের কোয়াগুলো চুষে খেলে সবচেয়ে বেশি পুষ্টি পাওয়া যায়।

  • লটকনের জুস: প্রচণ্ড গরমে লটকনের শরবত শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। লটকনের কোয়াগুলো চটকে সামান্য বিট লবণ ও চিনি মিশিয়ে জুস তৈরি করে খাওয়া যায়।

  • ভর্তা হিসেবে: অনেকেই কাঁচা মরিচ ও লবণ দিয়ে লটকনের ভর্তা পছন্দ করেন। এটি মুখের রুচি বাড়াতে দারুণ কাজ করে।

লটকন ব্যবহারের কিছু বিশেষ দিক

শুধু ফলের কোয়া নয়, লটকনের গাছ ও ছালেরও রয়েছে ঔষধি গুণ। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় লটকনের ছাল ও পাতা বিভিন্ন চর্মরোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। এটি পিত্তনাশক হিসেবেও কাজ করে। তবে এসব ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা ঠিক নয়।

লটকন খাওয়ার অপকারিতা ও সতর্কতা

সবকিছুরই যেমন ভালো দিক আছে, তেমনি অতিরিক্ত গ্রহণে কিছু সমস্যা হতে পারে। লটকনের উপকারিতা থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি:

এসিডিটির সমস্যা: লটকন যেহেতু টক জাতীয় ফল, তাই খালি পেটে অতিরিক্ত লটকন খেলে পেটে গ্যাস বা এসিডিটি হতে পারে।
দাঁতের এনামেলের ক্ষতি: অতিরিক্ত টক লটকন খেলে দাঁতের এনামেল সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং দাঁত শিরশির করতে পারে।
অ্যালার্জি: কারো কারো ক্ষেত্রে লটকন খাওয়ার পর ত্বকে র‍্যাশ বা চুলকানি হতে পারে। এমন হলে লটকন খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে: লটকনে পটাশিয়াম থাকে, তাই কিডনি রোগীদের লটকন খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

গর্ভাবস্থায় লটকনের উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় অনেক নারীরই টক জাতীয় খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগে। লটকন এই সময়ে ভিটামিন সি এবং আয়রনের চাহিদা পূরণ করতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় যেকোনো খাবার খাওয়ার আগে পরিমাণ নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত এবং ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

কেন আপনার খাদ্যতালিকায় লটকন রাখবেন?

বাজারে এখন অনেক বিদেশি ফল পাওয়া যায়, কিন্তু দেশি ফল হিসেবে লটকনের উপকারিতা অতুলনীয়। এটি সাশ্রয়ী, সহজলভ্য এবং রাসায়নিকমুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কৃত্রিম ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ থাকতে লটকন একটি চমৎকার পছন্দ হতে পারে।

লটকন একটি ঋতুভিত্তিক ফল, তাই এটি পাওয়ার সময়টুকুতে এর সদ্ব্যবহার করা উচিত। লটকনের উপকারিতা আমাদের শরীরকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ২-৩টি লটকন আপনার দৈনিক ভিটামিন সি-এর অভাব পূরণ করতে যথেষ্ট। তবে মনে রাখবেন, অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে লটকন খান এবং সুস্থ থাকুন।

আশা করি, এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি লটকনের উপকারিতা ও ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেয়েছেন। যদি এই তথ্যগুলো আপনার ভালো লাগে, তবে অন্যদের সাথে শেয়ার করে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করুন।

আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাপশন সহ ইত্যাদি দেখতে চান তাহলে আমাদের এই সাইটি ভিজিট করতে পারেন। আমাদের অন্য একটি সাইট ভিজিট করতে 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top