গ্রীষ্মের দাবদাহে এক টুকরো শসা যেন শরীরে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। সালাদ, স্যান্ডউইচ কিংবা শুধুই লবণ দিয়ে মেখে খাওয়া—শসা আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এটি এমন একটি সবজি (উদ্ভিদতাত্ত্বিকভাবে ফল), যা প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায় এবং দামেও সস্তা। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, সাধারণ এই সবজিটি পুষ্টিগুণে কতটা অসাধারণ।
শসার পুষ্টিগুণ
শসা খাওয়ার উপকারিতা
খালি পেটে শসা খাওয়ার উপকারিতা
বিপাক ক্রিয়া বা মেটাবলিজম বৃদ্ধি: সকালে খালি পেটে শসা খেলে শরীরের মেটাবলিজম রেট বাড়ে, যা সারাদিন ক্যালোরি বার্ন করতে সাহায্য করে। ডিটক্সিফিকেশন: সারারাত ঘুমানোর পর সকালে আমাদের শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের করে দিতে খালি পেটে শসা বা শসার জুস দারুণ কাজ করে। এটি লিভার ও কিডনিকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এনার্জি বুস্ট: সকালে চায়ের বদলে এক গ্লাস শসার জুস আপনাকে তাৎক্ষণিক সতেজতা এবং এনার্জি দিতে পারে।
রাতে শসা খাওয়ার উপকারিতা ও সতর্কতা
আরো পড়ুনঃ টমেটো খাওয়ার উপকারিতা - Tomato
তবে আয়ুর্বেদ শাস্ত্র এবং অনেক পুষ্টিবিদের মতে, রাতে শসা খাওয়া সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে।
শসা শরীর ঠান্ডা করে, তাই যাদের সাইনাস বা ঠান্ডা লাগার প্রবণতা আছে, রাতে শসা খেলে তাদের সমস্যা বাড়তে পারে।
শসায় প্রচুর পানি থাকে, তাই রাতে বেশি শসা খেলে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হতে পারে, যা আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
অনেকের ক্ষেত্রে রাতে কাঁচা শসা হজম হতে সময় নেয় এবং পেটে গ্যাস বা ব্লটিং-এর সৃষ্টি করতে পারে। তাই ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে খাওয়া শ্রেয়।
শসা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
তিতা শসা ও বিষক্রিয়া: কিছু শসায় 'কিউকারবিটাসিন' (Cucurbitacin) নামক এক ধরনের উপাদান থাকে, যা শসাকে তিতা করে তোলে। অতিরিক্ত তিতা শসা খেলে শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে, পেট ব্যথা বা বমি হতে পারে। তাই শসা কাটার পর তিতা মনে হলে তা ফেলে দেওয়া উচিত।
পেট ফাঁপা বা গ্যাস: শসায় থাকা কিউকারবিটাসিন অনেকের হজমে সমস্যা করে এবং পেটে গ্যাস বা ব্লটিং তৈরি করে। একে বলা হয় 'বার্পিং' সমস্যা।
কিডনির সমস্যা: শসায় পটাশিয়াম থাকে। যাদের কিডনির গুরুতর সমস্যা আছে বা শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি, তাদের অতিরিক্ত শসা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
রক্ত জমাট বাঁধায় প্রভাব: শসায় ভিটামিন কে থাকে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (Blood Thinners) খাচ্ছেন, তাদের হঠাৎ করে শসা খাওয়ার পরিমাণ খুব বেশি বাড়ানো উচিত নয়।
সতর্কতা ও খাওয়ার নিয়ম
তিতা অংশ বর্জন: শসার দুই প্রান্ত কেটে ঘষে নিলে তিতা ভাব কমে যায়। তবুও মুখে দিয়ে যদি অতিরিক্ত তিতা লাগে, তবে সেই শসা খাবেন না।
পরিমিত গ্রহণ: প্রতিদিন একটি বা দুটি মাঝারি আকারের শসা খাওয়াই যথেষ্ট। অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়।
