শীতকাল মানেই শুষ্ক বাতাস, রুক্ষ প্রকৃতি এবং ত্বকের হাজারো সমস্যা। তাপমাত্রা কমার সাথে সাথে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকে। ত্বক হয়ে ওঠে খসখসে, নিষ্প্রাণ এবং অনেক সময় ফেটে গিয়ে রক্ত পড়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। তাই এই সময়ে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। অনেকেই বাজারচলতি কেমিক্যালযুক্ত লোশনের বদলে শীতে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায় খুঁজতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
শীতে শুষ্ক ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায় কেন সেরা?
শীতে ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েল এবং প্রাকৃতিক ক্রিমের ব্যবহার
১. শীতে ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েল
ব্যবহারবিধি: গোসলের পর শরীর সামান্য ভেজা থাকা অবস্থায় সারা শরীরে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করুন। এটি লোশনের চেয়ে অনেক গুণ বেশি সময় ত্বককে আর্দ্র রাখে। মুখের শুষ্কতা দূর করতে রাতে কয়েক ফোটা এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল মুখে ম্যাসাজ করে ঘুমান।
২. শীতে ত্বকের যত্নে ক্রিম (ঘরোয়া)
পদ্ধতি: শিয়া বাটার (Shea Butter), নারিকেল তেল এবং আমন্ড অয়েল একসাথে মিশিয়ে একটি কাঁচের বয়ামে রাখুন। এটি শীতে ত্বকের যত্নে ক্রিম হিসেবে বাজারের যেকোনো নামিদামি ব্র্যান্ডের চেয়ে ভালো কাজ করে। এটি ত্বককে ফাটা থেকে রক্ষা করে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
অপ্রচলিত কিন্তু কার্যকরী: তিসি, ভাতের মাড় ও সজনে পাতা
৩. ত্বকের যত্নে তিসির ব্যবহার (Flaxseed)
তিসির জেল তৈরি: ১ কাপ পানিতে ২ টেবিল চামচ তিসি দিয়ে জ্বাল দিন। পানি আঠালো জেলের মতো হয়ে এলে নামিয়ে ছেঁকে নিন। এই জেলটি মুখে লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন। এটি শীতে ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে এবং গ্লো বাড়ায়।
৪. ত্বকের যত্নে ভাতের মাড়ের উপকারিতা
উপকারিতা: ভাতের মাড়ে রয়েছে ভিটামিন বি, সি এবং ই। এটি প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের পোড়া ভাব দূর করে এবং ত্বককে নরম করে। ব্যবহার: ভাতের মাড় ঠান্ডা করে তুলোর সাহায্যে মুখে লাগান। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ হবে।
৫. ত্বকের যত্নে সজনে পাতার উপকারিতা
প্যাক: সজনে পাতা বেটে বা এর গুঁড়া মধুর সাথে মিশিয়ে মুখে লাগান। এটি ত্বকের ব্রণ দূর করতে এবং শীতে ত্বককে সজীব রাখতে সহায়তা করে। ত্বকের যত্নে সজনে পাতার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না, এটি অ্যান্টি-এজিং হিসেবেও দারুণ কাজ করে।
শীতে তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন: কফি ও মসুর ডাল
৬. তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে কফি
ব্যবহারবিধি: ১ চামচ কফি গুঁড়ার সাথে ১ চামচ টক দই মিশিয়ে মুখে আলতো করে ঘষুন। তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে কফি খুব ভালো কাজ করে কারণ এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে কিন্তু ত্বককে একেবারে শুষ্ক করে না। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ত্বককে উজ্জ্বল করে।
৭. তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে মসুর ডাল
প্যাক: মসুর ডাল ভিজিয়ে রেখে বেটে নিন। এর সাথে সামান্য কাঁচা দুধ মিশিয়ে মুখে লাগান। এটি ত্বককে গভীর থেকে পরিষ্কার করে এবং তৈলাক্ত ভাব নিয়ন্ত্রণ করে আর্দ্রতা বজায় রাখে। তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে মসুর ডাল ও দুধের মিশ্রণ শীতে কালচে ভাব দূর করতে খুব কার্যকরী।
ত্বকের যত্নে ঘরোয়া টিপস
সানস্ক্রিন: শীতে রোদ মিষ্টি লাগলেও সূর্যের ইউভি রশ্নি ত্বকের ক্ষতি করে। তাই বাইরে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
প্যাচ টেস্ট (Patch Test): সজনে পাতা, তিসি বা অন্য যেকোনো উপাদান ব্যবহারের আগে কানের নিচে বা হাতে একটু লাগিয়ে দেখুন কোনো অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া হয় কিনা।
স্ক্রাবিংয়ে সাবধানতা: শীতে ত্বক নাজুক থাকে। তাই কফি বা চালের গুঁড়া দিয়ে স্ক্রাব করার সময় খুব জোরে ঘষবেন না, এতে চামড়া ছিলে যেতে পারে।
মেয়াদ: ভাতের মাড় বা ঘরে তৈরি ক্রিম ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন এবং ৩-৪ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না। বাসি উপাদান ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।
